close(x)
 

প্রকাশ্যে হোক বা পর্দার আড়ালে, সমঝোতা হতেই হবে

তৌহিদ হোসেন

নির্বাচনের এখনো ছয় মাস বাকি। আমি মনে করি না, দুই পক্ষ এখনই একেবারে অনড় অবস্থানে চলে গেছে। আমি মনে করি, এখন পর্যন্ত দুই পক্ষ যা বলছে, সেটি হচ্ছে পোস্টারিং (প্রকাশ্য অবস্থান)। এই পোস্টারিংটা আরও কিছুদিন হয়তো চলবে। চূড়ান্ত পর্যায়ে দুই পক্ষকে বসতে হবে। প্রকাশ্যে হোক বা পর্দার আড়ালে হোক, সমঝোতা হতেই হবে। এটা আমার অনুমান।

চাপ বিদেশ থেকে আসছে, হয়তো আরও আসতে থাকবে। তার পরিপ্রেক্ষিতে হয়তো সিদ্ধান্তটা হবে শেষমেশ। সে সিদ্ধান্ত কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতিবিদেরাই নেবেন। আপনি যখন চাপে পড়েও কোনো সিদ্ধান্ত নেন, তখনো কিন্তু সিদ্ধান্তটা আপনারই। প্রকাশ্যে হোক বা পর্দার আড়ালে হোক, সমঝোতা হতেই হবে। কারণ, কোনো সংকট তো চিরস্থায়ী হতে পারে না।

আমি খুব আশাবাদী মানুষ। আমি মনে করি, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটা পথ বের হবে। সেটি হয়তো চাপের কারণে হবে, এটা হতে পারে। ভালো কিছু হোক, দুই পক্ষই ছাড় দেবে—এমন সদিচ্ছা থেকে যে কিছু হবে, এটা মনে করি না। বিভিন্ন ধরনের চাপে হয়তো এমন পরিবেশ-পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে যে তারা শেষ পর্যন্ত বসবে এবং একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে।

জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বা মার্কিন প্রতিনিধিদল—যারাই আসছে, তারা প্রকাশ্যে ভালো ভালো কথা বলছে। কূটনীতিতে নিয়ম হচ্ছে, ভালো কথা বলা। তারা বলেছে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে না, বাংলাদেশ নিজেই সিদ্ধান্ত নেবে। তারা চায়, এখানে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হোক।

কথা হচ্ছে, এটুকু বলার জন্য কি দল বেঁধে আসার দরকার আছে। আমার বিশ্বাস, এটুকু বলার জন্য তারা আসেনি। প্রকাশ্যে যা বলছে, তার থেকে বেশি কিছু তারা বলেছে। কোথায় বলেছে, কাকে বলেছে, তা জানি না। আমার অনুমান, এর চেয়ে বেশি কিছু তারা বলেছে এবং সেটিই আসল কথা।

চলমান যে সংকট, সেটি এখনই শেষ হয়ে যাবে—এই রকম কোনো পদক্ষেপ এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিছু পদক্ষেপ আসতে হবে যাতে সংকটটা শেষ হয়। কারণ, এই সংকট তো চিরস্থায়ী হতে পারে না। আর ঠিক ২০১৮ সালের মতো বা ২০১৪ সালের মতো একটা একতরফা নির্বাচন হয়ে যাবে এবার, সেই সম্ভাবনাও আছে বলে মনে করি না। কাজেই একটা সমঝোতা বের হতে হবে এবং যতক্ষণ পর্যন্ত সমাধান না বের হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত সংকট আছে বলে আমরা ধরে নেব।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *