সমাবেশ করতে আ.লীগ-বিএনপিকে মানতে হবে ২৩টি শর্ত

আওয়ামী লীগ ও বিএনপি

রাজধানীতে সমাবেশের অনুমতি পেয়েছে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সহযোগী তিন সংগঠন। তবে সমাবেশের জন্য দুটি দলকেই ২৩টি শর্ত দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ জুলাই) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক দুটি দলকে সমাবেশের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি জানান।

ডিএমপির শর্ত অনুযায়ী নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি সমাবেশ করতে পারবে। সমাবেশের সময় বিএনপির নেতাকর্মীদের নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। এ ছাড়া নির্ধারিত সীমানার বাইরে সমাবেশের মাইক বসানো যাবে না।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের তিন সহযোগী সংগঠনকে (যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ) সমাবেশ করতে হবে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে। তারা বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট থেকে মহানগর নাট্যমঞ্চ এলাকা পর্যন্ত জমায়েত হতে পারবেন।

তবে দৈনিক বাংলা মোড় থেকে পল্টন মোড় এবং কালভার্ট রোড এই অংশে দুই দলের কেউই জমায়েত হতে পারবে না। এখানে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থাকবে। সব মিলিয়ে দুটি দলকে মোট ২৩টি শর্ত দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, নিজ নিজ দলের স্বেচ্ছাসেবক কর্মী যেন থাকে। উভয় পক্ষেরই কোনো নেতাকর্মী যেন নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে যেতে না পারে সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি মোতায়েন থাকবে।

যে ২৩ শর্তে অনুমতি

(১) এই অনুমতিপত্র স্থান ব্যবহারের অনুমতি নয়, স্থান ব্যবহারের জন্য অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে।

(২) স্থান ব্যবহারের অনুমতিপত্রে উল্লেখিত শর্তাদি যথাযথভাবে পালন করতে হবে।

(৩) অনুমোদিত স্থানেই (দক্ষিণ-পূর্বে মহানগর নাট্যমঞ্চ, দক্ষিণে সার্জেন্ট আহাদ পুলিশ বক্স, দক্ষিণ-পশ্চিমে ফুলবাড়িয়া ক্রসিং ও উত্তর-পশ্চিমে মুক্তাঙ্গন পর্যন্ত) সমাবেশের যাবতীয় কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।

(8) কোনো অবস্থাতেই অনুমোদিত স্থানের বাইরে কোনো ধরনের জনসমাগম করা যাবে না।

(৫) নিরাপত্তার জন্য নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক (দৃশ্যমান আইডি কার্ডসহ) নিয়োগ করতে হবে।

(৬) স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সমাবেশস্থলের অভ্যন্তরে ও চারদিকে উন্নত রেজ্যুলেশনযুক্ত ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে।

(৭) নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সমাবেশে আগতদের হ্যান্ড হেল্ড মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে (ভদ্রোচিতভাবে) চেকিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

(৮) নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সমাবেশস্থলে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা রাখতে হবে।

(৯) শব্দদূষণ প্রতিরোধে সীমিত আকারে মাইক বা শব্দযন্ত্র ব্যবহার করতে হবে, কোনোক্রমেই অনুমোদিত স্থানের বাইরে মাইক বা শব্দযন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না।

(১০) অনুমোদিত স্থানের বাইরে প্রজেক্টর স্থাপন করা যাবে না।

(১১) আজান, নামাজ ও অন্যান্য ধর্মীয় সংবেদনশীল সময় মাইক বা শব্দযন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না।

(১২) ধর্মীয় অনুভূতির ওপর আঘাত আসতে পারে এমন কোনো বিষয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন, বক্তব্য প্রদান বা প্রচার করা যাবে না ।

(১৩) সমাবেশের কার্যক্রম ছাড়া মঞ্চকে অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না।

(১৪) সমাবেশ শুরুর দুই ঘণ্টা আগে লোকজন সমবেত হওয়ার জন্য আসতে পারবে।

(১৫) অনুমোদিত সময়ের মধ্যে (দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা) সমাবেশের সার্বিক কার্যক্রম শেষ করতে হবে।

(১৬) কোনো অবস্থাতেই মূল সড়কে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না।

(১৭) আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থী ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এমন কার্যকলাপ করা যাবে না।

(১৮) রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কার্যকলাপ ও বক্তব্য দেওয়া যাবে না।

(১৯) উসকানিমূলক কোনো বক্তব্য দেওয়া বা প্রচারপত্র বিলি করা যাবে না।

(২০) কোনো ধরনের লাঠিসোঁটা বা ব্যানার, ফেস্টুন বহনের আড়ালে লাঠি, রড ব্যবহার করা যাবে না।

(২১) আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও কোনো বিরূপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে আয়োজনকারী কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে।

(২২) উল্লেখিত শর্তাদি যথাযথভাবে পালন না করলে তাৎক্ষণিকভাবে এই অনুমতির আদেশ বাতিল বলে গণ্য হবে।

(২৩) জনস্বার্থে কর্তৃপক্ষ কোনো কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে এই অনুমতির আদেশ বাতিল করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *