close(x)
 

‘সরকারের পতনের কোনো সম্ভাবনা নেই’

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সায়েম সাবু।

শ ম রেজাউল করিম। মন্ত্রী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি। রাজনীতির সমসাময়িক প্রসঙ্গ নিয়ে মুখোমুখি হন জাগো নিউজের। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সায়েম সাবু।
জাগো নিউজ: নির্বাচন আসন্ন। মাঠ দখলে মরিয়া রাজনৈতিক দলগুলো। একই দিনে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করছে সরকার-সরকারবিরোধী জোট। শঙ্কিত মানুষ! কী ঘটতে যাচ্ছে সামনে?

শ ম রেজাউল করিম: নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু প্রতিযোগিতার নামে কোনো প্রকার সহিংস পরিস্থিতি তৈরি করে জনগণের জান-মালের ক্ষতির চেষ্টা করা হলে রাষ্ট্র, প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া সরকারের দায়িত্ব।

অতীতে বিএনপি আন্দোলনের নামে সারা দেশে আগুন সন্ত্রাস, জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মারা, এমনকি গবাদি পশুও পুড়িয়ে মেরেছে। ওই সময়ের নৈরাজ্য সৃষ্টির মধ্য দিয়ে বিএনপির চরম ইমেজ সংকট হয়েছে। এবারও যদি তারা সেই ভুল পথে ধাবিত হয় তাহলে বিএনপির রাজনীতি স্বমূলে বিনাশ করবে। আমি আশা করি, বিএনপির শুভবুদ্ধির উদয় হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে যে কোনো দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলন করতেই পারে। সেই আন্দোলন হতে হবে নিয়মতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ। আওয়ামী লীগও তাদের সুযোগ দিচ্ছে আন্দোলন, সংগ্রামের জন্য। কোথাও আমরা বাধা দিচ্ছি না। কিন্তু আমাদের এ অবস্থানকে কোনোভাবেই দুর্বল ভাবা ঠিক হবে না।

জাগো নিউজ: বিএনপি যখন কর্মসূচি দিচ্ছে আওয়ামী লীগও তখন কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা দিচ্ছে এবং প্রায় একই স্থানে। আওয়ামী লীগের এ অবস্থানকে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ পরাজয় বলে উল্লেখ করছেন।

শ ম রেজাউল করিম: আওয়ামী লীগ এখন রীতিমতো মহীরুহের মতো। আওয়ামী লীগ একটি প্রতিষ্ঠান। আওয়ামী লীগ ফিনিক্স পাখির মতো। যতবার আওয়ামী লীগকে আঘাত করা হয়েছে, ততবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এবং ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বর্বরোচিত আঘাতের পরেও আওয়ামী লীগ ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

আওয়ামী লীগ কখনই পরাজিত হতে পারে না। কারণ এটি গণমানুষের দল। বিএনপির মতো যারা ক্যান্টনমেন্ট থেকে বের হয়ে একত্রিত হয়েছে, তারা অধিকাংশই হালুয়া-রুটির লোভে রাজনীতি করছে।

জাগো নিউজ: লগি-বৈঠার তাণ্ডবও দেখেছে মানুষ। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর যে রক্তাক্ত ইতিহাসের জন্ম দিয়েছিল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ সে রকম কোনো পরিস্থিতির আশঙ্কা করছেন কি না?

শ ম রেজাউল করিম: বিএনপির সহিংসতা কোনো সফলতা এনে দেবে না। বিএনপি সরকারে থাকাকালীন আওয়ামী লীগ শান্তি সমাবেশের অনুমতি চেয়েছিল। অনুমতি না পেয়ে পার্টি অফিসের সামনে আওয়ামী লীগ সমাবেশ করে। সেখানে রাষ্ট্রীয় সহায়তায় গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এরপরেও আওয়ামী লীগ ধ্বংস হয়নি। আর লগি-বৈঠার চেয়েও ভয়াবহ ছিল বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে আক্রমণের ঘটনা। আওয়ামী লীগ সেদিন কোনো আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেনি। আওয়ামী লীগের প্রতীক নৌকা। নৌকার লগি-বৈঠা নিয়ে আওয়ামী লীগ একটি প্রতীকী মিছিল করেছিল। বিএনপি-জামায়াত সেই মিছিলের ওপর হামলা করেছিল। আমার মনে হয় না বিএনপি আবারও সে ধরনের কোনো সংঘাত সৃষ্টি করে লাভ করতে পারবে। সংঘাতের চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জাগো নিউজ: আওয়ামী লীগ বিএনপি সরকারের কাছ থেকে অনুমতি পায়নি উল্লেখ করলেন। এখন বিএনপিকে অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রেও হয়রানি করা হচ্ছে।

শ ম রেজাউল করিম: বিএনপি তো প্রোগ্রাম করছে। তাদের কর্মসূচিতে কি আওয়ামী লীগ হামলা করেছে? কারণ হামলা করা আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য নয়।

জাগো নিউজ: এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই নির্বাচনী বৈতরণী পার করবে সরকার?

শ ম রেজাউল করিম: সংকট তৈরি করে নির্বাচন ঠেকানো যাবে না। অতীতেও পারেনি। মানুষ বিএনপির তাণ্ডবের জবাব দেবে। প্রশাসনও কঠোর অবস্থানে আছে।

জাগো নিউজ: প্রশাসন কঠোর অবস্থানে আগে থেকেই। এরপরেও বিএনপি-জামায়াত নতুন শক্তিতে মাঠে নামছে। বিরোধী জোটের নেতাদের দাবি সরকারের পতন এখন অনিবার্য। কী বলবেন?

শ ম রেজাউল করিম: সরকারের পতনের কোনো সম্ভাবনা নেই। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করেছে। আর কোনো পতন মানুষ দেখতে চায় না। মানুষ শেখ হাসিনার আমলের উন্নয়নের সুবিধা ভোগ করছে। তারাই শেখ হাসিনা সরকারের রক্ষক। আমার ধারণা, বিএনপি এখন অস্তিত্ব সংকটের মুখে।

জাগো নিউজ: নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের যে দাবি নিয়ে বিএনপি জোট মাঠে নেমেছে, সেই দাবির প্রতি আপনাদের এখন অবস্থান?

শ ম রেজাউল করিম: দেশের সর্বোচ্চ আইন সংবিধান। সংবিধান অনুসারে নির্বাচন হয়। অন্য দেশেও তাই হয়।

দেশের সর্বোচ্চ আদালত বলে দিয়েছেন নির্বাচিত সরকার আরেকটি নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। অন্য কোনো পন্থা এখানে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এটিই গণতন্ত্রের মূল কথা। সর্বোচ্চ আদালত যেটাকে বেআইনি বলছেন, আমরা সেটাকে আইনসিদ্ধ করতে পারি না।

জাগো নিউজ: সর্বোচ্চ আদালত আরও দুটি নির্বাচন বলেছিলেন, চাইলে আরও দুটি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করা যেতে পারে। আপনারা সে নির্দেশনা মানেননি।

শ ম রেজাউল করিম: যদি সংসদ মনে করতো, তাহলে দুটি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হতে পারতো। সংসদ তা মনে করেনি।

জাগো নিউজ: বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে রীতিমতো বিবৃতি দিচ্ছে আন্তর্জাতিক মহল। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট নিয়মিত ব্রিফ করছে যেখানে বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতি গুরুত্ব পাচ্ছে। কীভাবে দেখছেন?

শ ম রেজাউল করিম: প্রভাবশালী রাষ্ট্রসমূহ চায় আমাদের মতো ছোট ছোট দেশগুলো যেন সাবলম্বী হতে না পারে। তারা চায় আমরা তাদের কলোনি রাষ্ট্র হয়ে থাকি। আমরা মুক্তিযুদ্ধের সময় দেখেছি, তারা কীভাবে বিরোধিতা করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় এখনো শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ করে যাচ্ছে।

মনে রাখতে হবে ১৯৭১ সাল আর এখনকার বাংলাদেশ এক নয়। শেখ হাসিনা তার নেতৃত্ব দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্ব নেতৃত্বে পৌঁছে দিচ্ছেন। সুতরাং, বিদেশ থেকে কে বা কারা প্রেসক্রিপশন দিলো, তা নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *