close(x)
 

নির্বাচনের আগে সরকার ইচ্ছামতো প্রশাসন সাজাচ্ছে: ফখরুল

নতুন ফাঁদ পাতছে আওয়ামী লীগ

নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসন যন্ত্রকে সরকার নিজেদের মতো করে সাজাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এখন নির্বাচনের আগে নিজেদের লোকদের প্রশাসনের বিভিন্ন পদে বসাচ্ছে। মন্ত্রীদের পিএসদের ডিসি করছেন, নিজেদের লোকদের ইউএনও করছেন।

রোববার (১৬ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগরীর কাজীর দেউরি সংলগ্ন নুর আহমদ সড়কে চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিকদলের ‘মেহনতী শ্রমিক জনতার মহাসমাবেশে’ প্রধান অথিতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, সারাদেশের মানুষ এখন অবৈধ, লুটেরা, মাফিয়া সরকারের কাছে বিদায়ের বার্তা দিতে চায়। স্বৈরাচারের পতন, অত্যাচারীর পতন চায় দেশের জনগণ। চট্টগ্রাম সংগ্রাম তীর্থ। চট্টগ্রামের মানুষ অবৈধ লুটেরা সরকারকে কী বার্তা দিতে চায় তা সারাবিশ্বে পৌঁছে দিতে হবে। চট্টগ্রামের মানুষ কখনো মাথা নত করেনি। চট্টগ্রামের মানুষ মাথা উঁচু করে বৃটিশের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে, এ মাটি থেকে মাস্টার দা, প্রীতিলতা সংগ্রাম করেছেন, জিয়াউর রহমান এ চট্টগ্রামের মাটি থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এ লালদীঘি ময়দান থেকে ১৯৮৬ সালে বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন শুরু করেছিলেন।

জনগণের আন্দোলন দীর্ঘদিন ধরে চলছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ওই মইনুদ্দীন ফখরুদ্দীনের সঙ্গে আঁতাত করে গোপনে গোপনে ফন্দি করে জোর করে ক্ষমতায় এসেছিল, সেদিন থেকেই আমাদের লড়াই শুরু হয়েছে। দেশ স্বাধীন হয়েছিল, দেশকে মুক্ত করার, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য।

তিনি বলেন, ১০ টাকার চাল খাওয়ানোর কথা বলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে। এখন সেই চালের কেজি ৯০ টাকা। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষ দিশেহারা। দেশের মানুষ শান্তিতে নেই। চাকরি নেই। মানুষ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত।

আওয়ামী লীগকে বকধার্মিকের দল উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ সেই বকধার্মিক, এখন নতুন ফাঁদ পাতছে আবার ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য। এটাকে বলে গণতন্ত্র। নির্বাচনকে গণতন্ত্রের পদযাত্রা বলা হয়। এখন সেই নির্বাচন হয় না। এখন ভোটই হয় না। ২০১৪ সালে ২০১৮ সালে আজকের তরুণরা ভোট দিতে পারেনি। এখন বলছে তাদের অধীনে সুষ্ঠু ভোট হবে। সবাই যেন নির্বাচনে অংশ নেয়। এ যেন ভূতের মুখে রাম নাম। আসলে আওয়ামী লীগের চরিত্রই ভালো না। আর নির্বাচন কমিশন হচ্ছে একটা ‘ঠুটো জগন্নাথ’, তাদের কোন ক্ষমতা নেই। আওয়ামী লীগ যাই বলে তারা তা বাস্তবায়ন করে। অথচ বেগম খালেদা জিয়া দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান করেছেন। নির্বাচনের সময় নিরপেক্ষ সরকার থাকলে নির্ভয়ে নিজের ভোটটা দিতে পারে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, সরকারের হাতে আর কোনো সময় নেই। তাদের শেষ সময় চলছে। আমি পরিষ্কারভাবে বলেছি। আবারও বলছি, ভালো ভালোয় পদত্যাগ করেন, সংসদ ভেঙে দেন। ভালোয় ভালোয় পদত্যাগ করে মানুষকে মুক্তি দিন, না হয় জনগণ তাদের হারানো ভোটাধিকার আদায় করে নিতে বাধ্য হবে।

তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নিরপেক্ষ সরকার, নির্দলীয় সরকার থাকলে আওয়ামী লীগের নির্বাচিত হতে পারবে না। এটা বুঝতে পেরেই পার্লামেন্টে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিধান বাতিল করা হয়। নিজেদের অধীনে নির্বাচন করে ক্ষমতায় আকড়ে ধরতে চায়। কিন্তু জনগণ এটা হতে দেবে না।

ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে আট বছর কারাগারে রাখা হয়েছে। তিনি গণতন্ত্রের জন্য আপসহীন সংগ্রাম করেছেন। রাষ্ট্র মেরামতের জন্য আমরা ৩১ দফা দিয়েছি। আমাদের নেতা তারেক রহমান এ ৩১ দফা দিয়ে আমাদের একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বন্দুক দিয়ে, হুমকি দিয়ে ভয় দেখিয়ে আর কাজ হবে না। অনেক অপরাধ করেছেন, জুডিশিয়াল কিলিং করেছেন, ১ লাখ ২৪ হাজার গায়েবি মামলা দেওয়া হয়েছে। এসব মামলায় ৪০ লাখ নেতাকর্মীকে আসামি করেছেন। কেউ ক্ষমতায় চিরস্থায়ী থাকতে পারেনি। এরশাদও স্বৈরাচারী কায়দায় ক্ষমতায় থাকতে পারেননি, আপনিও (শেখ হাসিনা) পারবেন না। ক্ষমতার এ মসনদ কারও জন্য পারমানেন্ট নয়। মানে মানে সরে পড়েন।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর নাসির উদ্দিন, বরকতউল্লা বুলু, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার, এস এম ফজলুল হক, বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলাল, মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব আবুল হাসেম বক্কর, শ্রমিকদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আনোয়ার হোসাইন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, বান্দরবান বিএনপির সভাপতি ম্যামাচিং, চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিক দল সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দিন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *