close(x)
 

জাতীয়করণের আগেই এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা যে সুবিধা পেতে পারেন

মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকরা তাদের কর্মসূচি স্থগিত করে ক্লাসে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এবং আওয়ামী লীগে যুক্ত হওয়া সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব কবির বিন আনোয়ারের সঙ্গে মঙ্গলবার রাতে বৈঠকের পর তারা কর্মসূচি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেন।

২১ দিন জাতীয় প্রেস ক্লাবে অবস্থান কর্মসূচি পালনের পর মঙ্গলবার থেকে অনশন শুরু করেছিলেন এই শিক্ষকরা। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তারা কর্মসূচির আপাতত ইতি টানলেন।

তবে জাতীয়করণ সময়সাপেক্ষ ব্যপার হলেও সরকারি বেসরকারি শিক্ষকদের মধ্যে বিদ্যমান বেতন-ভাতা বৈষম্যের অবসান হবার বিষয়টি জোড়ালোভাবে আলোচনা হয়েছে। সে লক্ষে কাজ করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যক্ষ বজলুর রহমান মিয়া শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, জাতীয়করণ যে রাতারাতি সম্ভব না সেটা আমরাও জানি। আমরা জাতীয়করণের ঘোষণা চেয়েছিলাম। রাতারাতি জাতীয়করণ করতে হবে সেটা বলিনি। জাতীয়করণের বিষয়ে যে দুটি কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেখানে তাদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। এই দুই কমিটিতে শিক্ষক প্রতিনিধি থাকবেন।

তিনি বলেন, জাতীয়করণের এই কমিটি কাজ করবে। যেহেতু এটা দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার। সেক্ষেত্রে সরকারি শিক্ষকদের মত বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা এবং শতভাগ বোনাসের দাবিতে আমরা সকলে একমত হয়েছি। জাতীয়করণের পূর্বে এই সংকট গুলো আগে সমাধান করার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ও একমত। তাঁরা শিক্ষকদের এই বৈষম্যের বিষয়টি স্বীকার করেছেন এবং দ্রুত এই সমস্যাটাকে সমাধান করবেন বলে আমাদের কাছে কথা দিয়েছেন।

জাতীয়করণের বিষয়টির আর্থিক হিসেব করে যেমন প্রধানমন্ত্রীর নিকট পাঠানো হবে তেমনি শিক্ষকদের দ্রুত এই বৈষম্যের সমাধান করতেও আর্থিক হিসেব টা প্রধানমন্ত্রীর নিকট পাঠানো হবে।

কবে নাগাদ শিক্ষকদের এই বেতন বৈষম্যের বিষয়টি সমাধান হতে পারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, এই প্রশ্নটা আমরাও বৈঠকে করেছিলাম তাঁরা বলেছেন, যেহেতু এটা অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে সম্পৃক্ততা রয়েছে তাই নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। তবে দ্রুতই তাঁরা এই বিষয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠাবেন।

তিনি আরও বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করতে কত টাকা লাগবে, সেই তথ্য কমিটি প্রধানমন্ত্রীকে জানাবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এরপর প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন।

তিনি বলেন, ফলে আমরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করছি। আগামী বৃহস্পতিবার থেকে শিক্ষকরা ক্লাসে ফিরবে।

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির ব্যানারে গত ১১ জুলাই থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষকরা। গত ১৯ জুলাই আন্দোলনরত শিক্ষক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। সংসদ নির্বাচনের আগে এই দাবি মানা সম্ভবপর নয় জানালেও জাতীয়করণের বিষয়টি বিবেচনার জন্য দুটি কমিটি গঠনের কথা বলেছিলেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রী যে দুটি কমিটি করার কথা বলেছিলেন, সেখানে বিভিন্ন সংগঠনের শিক্ষক নেতাদের রাখার প্রস্তাব শিক্ষক নেতারা দিলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। ফলে আন্দোলন চালিয়ে যান শিক্ষকরা। তারা প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চাইছিলেন; বলছিলেন, তা না হলে তারা কর্মসূচি থেকে সরবেন না।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *