close(x)
 

স্কুলে টিকটক: শিক্ষকের মারধরের পর বাড়ি ফিরে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

শিক্ষকের মারধরের পর বাড়ি ফিরে শিক্ষার্থীর মৃত্যু, বিক্ষোভ

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে টিফিনের সময় স্কুলের ছাদে বন্ধুর জন্মদিনের কেক কেটে টিকটক করার অপরাধে শিক্ষকের চড়-থাপ্পড়ের পর এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

রোববার কালিগঞ্জের নলতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান কালিগঞ্জ থানার এসআই আবুল হাসান।

মৃত শিক্ষার্থীর নাম রাজ প্রতাপ দাস। সে ওই স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

প্রতাপের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা স্কুলে ভাঙচুর চালায়, পুড়িয়ে দেওয়া হয় একটি মোটর সাইকেল।

শিক্ষকদের বরাত দিয়ে কালিগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, সকাল পৌনে ১০টার দিকে নলতা হাইস্কুলের এক্সটেনশন ভবনে কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী তাদের এক বন্ধুর জন্মদিনের কেক কাটছিল। স্কুলের শিক্ষকরা বিষয়টি জানতে পেরে তাদেরকে বকাঝকা করেন ও চড়-থাপ্পড় মারেন। বিষয়টি অভিভাবকদেরও জানানো হয়।

স্কুলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে স্কুলের ছাদে কেক কাটে রাজ প্রতাপ দাসসহ তার কয়েকজন বন্ধু। এসময় তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টিকটকে ভিডিও করছিল। বিষয়টি নজরে পড়ে সহকারী শিক্ষক অবকাশ খাঁর। তিনি ওই শিক্ষার্থীদের নিষেধ করলে তার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের চড়-কিল-ঘুষি মারেন। এর পরপরই বাড়ি চলে যায় প্রতাপসহ তার বন্ধুরা।

প্রতাপের কাকীমা তাপসী দাশ বলেন, “প্রতাপ স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে টয়লেটে যায়। সেখান থেকে সে বমি করতে করতে বের হয়। তখন পরিবারের সদস্যদের তাকে দ্রুত ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে বলে। তাকে নিয়ে চিকিৎসকের কাছে রওনা হলে পথেই সে মারা যায়।”

স্কুলের শিক্ষার্থী ও প্রতাপের বন্ধু আল-রাফি, মুশফিকুর ও জুবায়েরের দাবি অবকাশ চন্দ্রসহ অন্যান্য শিক্ষকদের মারপিটে অসুস্থ হয় প্রতাপ। এরপর বাড়িতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রতাপের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তার সহপাঠীসহ এলাকাবাসী বাড়ি থেকে মরদেহ নিয়ে স্কুল চত্বরে ফিরে গিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। হাজারো মানুষের বিক্ষোভে অংশ নেয়। তারা স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কক্ষসহ বিভিন্ন কক্ষ ভাঙচুর করে।

সাতটি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের পাশাপাশি পুড়িয়ে দেওয়া হয় একটি মোটরসাইকেল। খবর পেয়ে কালিগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে হিমশিম খায়। পরে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সেখানে যান পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও।

সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার কাজী মনিরুজ্জামান জানান, এরই মধ্যে দুইজন শিক্ষককে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় পুলিশ।

এ ঘটনায় প্রতাপের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা করা না হলেও পুলিশ নিজ উদ্যোগে ঘটনাটি তদন্ত করবে বলেও জানান তিনি।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *