close(x)
 

কোনো হুমকি পরোয়া করেন না শিক্ষকরা, প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চান

আন্দোলনরত শিক্ষকদের ক্লাসে ফেরাতে সরকারের বিভিন্ন দফতর থেকে চাপ দেয়ার অভিযোগ করছেন শিক্ষক নেতৃবৃন্দ। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) থেকে বিভিন্ন স্কুলের ক্লাসে অনুপস্থিত শিক্ষকদের তালিকা করারও হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।

তার পরেও আন্দোলনে অনড় অবস্থানে রয়েছেন তারা। শিক্ষকদের দাবি, জাতীয়করণের দাবি আদায় না করে তারা ক্লাসে ফিরবেন না। আর এই ঘোষণা শিক্ষকরা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পেতে চান। প্রয়োজনে পাঁচ মিনিটের জন্য হলেও তারা প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চান। অপর দিকে শিক্ষকদের আন্দোলনে অন্য কোনো গোষ্ঠীর উসকানি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি।

এ দিকে গতকাল সোমবার শিক্ষকদের টানা আন্দোলন দুই সপ্তাহ পার হয়েছে। মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে দেশের প্রায় সব স্কুলের শিক্ষকরাই এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। প্রতিদিনের মতো গতকালও প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এই অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষকরা। শিক্ষক নেতৃবৃন্দ জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে জাতীয়করণের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসলেই শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাবেন তারা। স্কুলে স্কুলে অননুমোদিত অনুপস্থিত শিক্ষকদের তালিকা তৈরির কথা বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টদের টালবাহানা বন্ধ করারও দাবি জানায় তারা।

গত দু’দিন আগে থেকে আন্দোলনের গতি বাড়াতে জাতীয়করণের দাবিতে অংশগ্রহণকারী সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে জাতীয়করণ সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে এই আন্দোলন শুরু করছে তারা। এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির (বিটিএ) সভাপতি অধ্যক্ষ বজলুর রহমান মিয়া। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শেখ কাওছার আহমেদ আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে রয়েছেন। কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় এবং বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক ও নেতারা বক্তব্য দিচ্ছেন। বক্তব্যের ফাঁকে ফাঁকেই চলছে নানান সে্লাগান। কর্মসূচির কারণে প্রেস ক্লাবের সামনের রাস্তার একটি অংশ প্রতিদিনই বন্ধ রয়েছে।

আজ বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির (বিটিএ) সভাপতি অধ্যক্ষ বজলুর রহমান মিয়া বলেন, ইতোমধ্যেই আমাদের দাবিসমূহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট পৌঁছে গেছে। এখন শুধু আমরা প্রধানমন্ত্রীর একটি ঘোষণার অপেক্ষায় আছি। তিনি আমাদের যৌক্তিক দাবির বিষয়টি বিবেচনা করে যে সিদ্ধান্ত দিবেন আমরা তা মেনে নিয়ে শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাবো। তবে সম্প্রতি জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকদের নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রী আমাদের শিক্ষকদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

আমরা এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাই। বারবার শিক্ষকদের নিয়ে এসব মন্তব্য যখন শিক্ষামন্ত্রীই করেন তখন এ নিয়ে আর কিছু বলার থাকে না।

অন্য দিকে স্কুলে স্কুলে অনুপস্থিত শিক্ষকদের তালিকা বিষয়ে তিনি বলেন, এ তালিকা আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে নিতে হবে না। আমাদের আন্দোলনস্থলে আসলেই আমরা স্বাক্ষর করে দিয়ে দিবো কারা এখানে আন্দোলন করছি। এসব নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের টালবাহানা বন্ধ করার আহবান জানান তিনি।

শিক্ষাবার্তার এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ মো. আলমগীর হোসেন খান বলেন, আমরা মানবতার নেতৃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা করবো উনারা কারা যারা আমাদের বাধা দেয়। আমরা আওয়ামীলীগ পরীক্ষীত কর্মী সুতরাং কারো রক্ত চক্ষু কেয়ার করি না। আমরা আমাদের ন্যায্য দাবি আদায় করেই প্রতিষ্ঠানে ফিরবো ইনশাআল্লাহ।

শিক্ষাবার্তার আরেক প্রশ্নের জবাবে, অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী বলেন, ইতোমধ্যেই আমাদের দাবিসমূহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট পৌঁছে গেছে। এখন শুধু আমরা প্রধানমন্ত্রীর একটি ঘোষণার অপেক্ষায় আছি। তিনি আমাদের যৌক্তিক দাবির বিষয়টি বিবেচনা করে যে সিদ্ধান্ত দিবেন আমরা তা মেনে নিয়ে শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাবো। তবে সম্প্রতি জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকদের নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রী আমাদের শিক্ষকদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

গত ১১ জুলাই থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে টানা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষকরা। গত বুধবার শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি আন্দোলনরত শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকের পর গ্রীষ্মকালীন ছুটি বাতিল করায় গত রোববার থেকে স্কুলে স্কুলে ক্লাস শুরু হয়েছে। তবে আন্দোলনরত শিক্ষকরা ক্লাসে ফিরেননি। দাবি আদায় করে স্কুলে ফিরবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

এ অবস্থায় সারা দেশের স্কুলে স্কুলে ক্লাসে অননুমোদিত অনুপস্থিত থাকা সব শিক্ষকের তালিকা প্রতিদিন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) ৯টি আঞ্চলিক কার্যালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রতিটি কার্যালয় থেকে রোববার আলাদা আলাদা নির্দেশ জারি করা হয়।উসকানির অভিযোগ শিক্ষামন্ত্রীর : শিক্ষকদের আন্দোলনে উসকানি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি। আন্দোলনরত শিক্ষকদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, আন্দোলনের পেছনে অবশ্যই উসকানি আছে।

যারা জনগণকে সম্পৃক্ত করে কোনো আন্দোলন গড়ে তুলতে পারছে না- তারা একেক সময় একেক দল, গোষ্ঠীর ওপর সওয়ার হচ্ছে। শিক্ষক আন্দোলনের ওপর সওয়ার হয়েও আন্দোলনকে একটি জায়গায় নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা তাদের থাকতেই পারে। গতকাল একটি অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। মন্ত্রী বলেন, জাতীয়করণের সঙ্গে বড় আর্থিক সংশ্লেষ রয়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষকদের অনেকেই আন্দোলন থেকে চলে গেছেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *