close(x)
 

রাজপথে শিক্ষকরা ধ্বনিত হচ্ছে জাতীয়করণ জাতীয়করণ

আজ শনিবার প্রেসক্লাবে চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষকরা অবস্থান কর্মসূচী চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের একদাবি জাতীয়করণ। জাতীয়করণ ছাড়া তারা রাজপথ ছাড়বে না। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির (বিটিএ) সভাপতি অধ্যক্ষ মো. বজলুর রহমান মিয়া সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

অন্যদিকে সরকারের পাতানো ফাঁদে পা দেবেন না বলেও শিক্ষক নেতৃবৃন্দ আহবান জানান। আন্দোলন বানচাল করতে শিক্ষা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুই দিনের কর্মশালা আয়োজন করে শিক্ষকদের আন্দোলন থেকে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেনবাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির (বিটিএ) সভাপতি অধ্যক্ষ মো. বজলুর রহমান মিয়া। তিনি গতকাল সন্ধ্যায় শিক্ষাবার্তা ডট কমকে জানান, সরকার কর্মশালার আয়োজন করে আমাদের আন্দোলন থেকে সরিয়ে নিতে চাইছে। আমরা এই কর্মশালা প্রত্যাখ্যান করেছি। তবে এক-দুটি সংগঠনের নামধারী নেতা সেই কর্মশালায় গেলেও তারা আসলে আমাদের আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত নন। তারা আমাদের কাছে সরকারের দালাল হিসেবেই পরিচিত।

এদিকে শিক্ষকদের জাতীয়করণের দাবি আদায়ে নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন ও আদর্শ শিক্ষক পরিষদের নেতৃবৃন্দ। তারা জানিয়েছেন, দেশজুুড়ে শিক্ষকদের আন্দোলনে যুক্ত করতে এবং আন্দোলনের যৌক্তিকতা তুলে ধরতে সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রচারপত্র বিলি, ব্যানার ফেস্টুন ও সভা সেমিনারের আয়োজন অব্যাহত রাখবেন। একই সাথে ৩০ জুলাইয়ের পর এই দুটি সংগঠন জেলা মহানগর ও রাজধানীতেও পৃথক পৃথকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে সরকারের কাছে শিক্ষকদের ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবি তুলে ধরার চেষ্টা অব্যাহত রাখবেন।

আন্দোলনে অংশ নেয়া শিক্ষকদের মধ্যে অনেকেই জানান, সরকার শিক্ষকদের আন্দোলন ধামাচাপা দিতেই মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণে ‘যৌক্তিকতা’ খতিয়ে দেখতে ও ‘অভিন্ন সুপারিশমালা প্রণয়নে’ একটি আবাসিক কর্মশালার আয়োজন করেছে শিক্ষা প্রশাসন।

গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরের ব্র্যাক সিডিএমের কনফারেন্স রুমে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার এ ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ ওয়ার্কশপে অংশ নিতে শিক্ষক সংগঠনগুলো নেতাদের বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ। জানা গেছে, মহাপরিচালক প্রতিটি শিক্ষক সংগঠনের দু’জন করে দায়িত্বশীলকে ওই কর্মশালায় অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি এ কর্মশালাকে সফল করতে সবার সহযোগিতাও চেয়েছেন। এদিকে এ ওয়ার্কশপকে প্রত্যাখ্যান করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষক নেতারা। তারা এতে ষড়যন্ত্র দেখছেন। বিটিএর সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শেখ কাওছার আহমেদ বলেন, আমরা এ ওয়ার্কশপে যাবো না। আমাদের শিক্ষকরা রাজপথে থাকবেন আর আমরা ওয়ার্কশপে যাবো তা হবে না।

আমাদের রাজপথের আন্দোলনের বিষয়ে যদি কোনো সুষ্ঠু সমাধান পাই তাহলেই কেবল আমরা ওয়ার্কশপে যেতে পারি, অন্যথায় নয়। তিনি আরো বলেন, জাতীয়করণের দাবিতে কমিটি করার ঘোষণা শুধু বিটিএর আন্দোলনের ফসল। তবে কমিটি গঠনের কথা বলে. তা না করে ওয়ার্কশপ করা মন্ত্রণালয়ের কোনো কৌশল। কোনো কমিটি হয়েছে কি-না সে বিষয়টিও আমাদের জানা নেই। রাজপথে দাবি আদায়ে আন্দোলনের সমাধান এলে তখনই আমরা এ ধরনের কর্মশালা নিয়ে চিন্তা করব।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *